Class-02

 নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত

এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোর জনবল কাঠামো ও বেতনভাতার জন্য ২০১৮ সালে প্রথম নীতিমালা করেছিল কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। যদিও সেই নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষকরা সুযোগ-সুবিধা পাননি।

এখন নতুন করে যে নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা বিভাগের যুগ্ম সচিব এস এম মাসুদুল হক।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নীতিমালাটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে নীতিমালাটি জারি হবে।”                               

এ নীতিমালায় এবতেদায়ী প্রধানদের বেতন ১১তম গ্রেডে এবং এবতেদায়ী শিক্ষক, ক্বারী ও মৌলভী পদের বেতন ১৩তম গ্রেডে বেতন দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মাসুদুল হক জানান, প্রতিটি এবতেদায়ী মাদ্রাসায় সাতটি পদ থাকবে। এর মধ্যে একটি পদ এবতেদায়ী প্রধানের এবং সহকারী শিক্ষকের পদ পাঁচটি। তার মধ্যে দুজনের পদবি শিক্ষক, একজনের মৌলভী এবং আরেকটি পদের নাম ক্বারী। বাকি পদটি অফিস সহায়কের, যার বেতন হবে ২০তম গ্রেডে।


তথ্য সংগ্রহ শুরু

বর্তমানে যেসব এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা যৎসামান্য অনুদান পেয়ে থাকেন, সেই ১৫১৯টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাঠাতে গত ৫ মে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়েছে মাদ্রসা অনুবিভাগ।

সেখানকার সিনিয়র সহকারী সচিব আসগর আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ মাদ্রাসাগুলো জন্য কিছু করার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেজন্যই তথ্য সংগ্রহ। মাদ্রাসাগুলোর খুব বেশি তথ্য তো আমাদের কাছে নেই।”

অতিরিক্ত সচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, “তাদের এমপিও নীতিমালায়- এমপিওভুক্তির ক্রাইটেরিয়া বা শর্ত ঠিক করা হবে। কোন কোন ক্রাইটেরিয়া পূরণে তাদের এমপিওভুক্ত করা যায়, সে বিষয় নির্ধারণ করতেও মাদ্রাসাগুলোর তথ্য প্রয়োজন।”

জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো চিঠিতে মাদ্রাসাগুলোর এডুকেশনাল ইনস্টিটিউট আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ইআইআইএন), প্রথম অনুদান পাওয়ার তারিখ, জমির পরিমাণ, এলাকা, শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, শ্রেণিভিত্তিক তিন বছরের শিক্ষার্থীর তথ্য, নিকটতম মাদ্রাসার দূরত্ব, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, সংরক্ষিত তহবিল ও অবকাঠামোর তথ্য চাওয়া হয়েছে চিঠিতে।

বিলম্বে ক্ষোভ শিক্ষক নেতাদের

গত ৫ মার্চ দায়িত্ব ছাড়ার আগে এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো এমপিওভুক্তির প্রস্তাবে অনুমোদন দেন সাবেক শিক্ষা ও বর্তমান পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। এরপর সেই প্রস্তাব প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

শিক্ষক সংগঠন এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষা উন্নয়ন বাংলাদেশের মহাসচিব রেজাউল হক গত ২৬ এপ্রিল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, “গত ২৮ জানুয়ারি এবতেদায়ী মাদ্রাসা সরকারিকরণের যে ঘোষণা তা বাস্তবায়ন করতে হবে। গত ৫ মার্চ সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছেন।

“এমপিওভুক্ত (স্কুল-কলেজের) শিক্ষকদের সুবিধা বাড়ানোর কথাও বলেছিলেন। সেটির কাজ এগিয়ে গেলেও এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির কাজ হয়নি কেন? ৩১ মার্চের মধ্যে এবতেদায়ী মাদ্রাসার নীতিমালা জারির কথা ছিল, কিন্তু তা হল না কেন?”

মে মাস এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্তি শুরু করার কথা ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, “পরে জুন ও জুলাই মাসে সব নিবন্ধিত মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু তা হয়নি। ২৮ জানুয়ারি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের ঘোষণা এসেছিল। কিন্তু তার সঙ্গে সংযুক্ত এবতেদায়ী মাদ্রাসা যুক্ত করা হয়েছে।

“তাই মোট ২৭ হাজার মাদ্রাসা জাতীয়করণে সরকার গড়িমসি করছেন। স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার সঙ্গে জাতীয়করণের প্রস্তাবে সংযুক্ত এবতেদায়ী মাদ্রাসা কারা যুক্ত করলো, তা আমরা জানতে চাই।”

যে এবতেদায়ী মাদ্রাসার সঙ্গে একই নামে, একই ক্যাম্পাসে দাখিল (মাধ্যমিক পর্যায়) কিংবা আলিম বা ফাজিল (উচ্চ পর্যায়ের) মাদ্রাসা রয়েছে, সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত এবতেদায়ী মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত।

স্বতন্ত্র এবতেদায়ীর শিক্ষক সংগঠনগুলোর মোর্চা স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের মহাসচিব শামসুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রথমে যখন প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়, সেখানে সংযুক্ত এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোর তথ্যও পাঠানো হয়।

“কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ফাইল কোয়ারি দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। এ প্রক্রিয়ায় অনেকটা সময় লেগে যায়। পরে শুধু স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার ফাইল পাঠানো হয়।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্তি ও ধাপে ধাপে সরকারিকরণে সরকার আশ্বাস দিলেও সংযুক্ত মাদ্রাসা নিয়ে কোনো ঘোষণা ছিল না।

“কিন্তু কোনো কোনো আমলা সংযুক্ত এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে তার সঙ্গে যোগ করে, ফলে টাকার অংক অনেক বড় হয়ে যায়, ফাইল অনুমোদনের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। এমনটা না হলে মে মাসের শুরুতেই আমরা এমপিও পেতাম।”

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে যুগ্ম সচিব এস এম মাসুদুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “স্বতন্ত্র ও সংযুক্ত এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো এমপিওভুক্ত করতে প্রস্তাব প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

“সেটি ফেরত পাঠিয়ে বলা হয়েছে, উপদেষ্টার অনুমোদন নিয়ে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য। সেভাবেই কাজ চলছে।”


No comments:

Post a Comment

Album picture